ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা ও আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে সাংবাদিক মহলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর আচরণ কেমন হওয়া উচিত? সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো প্রশ্ন করলে তার উত্তর দেওয়া কিংবা উত্তর দিতে অনিচ্ছুক হলে সৌজন্য বজায় রাখা—এটাই কি হওয়া উচিত নয়?
অন্যদিকে, পরীমনির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে চিকিৎসা পরীক্ষার প্রকৃত ফলাফল কিংবা কোনো ধরনের মাদক বা অ্যালকোহল গ্রহণের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য মেডিকেল রিপোর্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
এদিকে পরীমনির ব্যক্তিগত জীবন, বিয়ে, পারিবারিক সম্পর্ক এবং চলচ্চিত্রজীবন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কের বাইরে একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর পেশাগত আচরণ এবং আইন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলোও আলোচনায় থাকা জরুরি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া বা না দেওয়া একজন ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও পেশাগত সৌজন্য বজায় রাখা সবারই দায়িত্ব।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—কোনো ব্যক্তি নারী কিংবা পুরুষ হওয়ার ভিত্তিতে নয়, বরং অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত হচ্ছে কি না? নারী ও পুরুষ উভয়ের ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং আইনি অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব।
পরীমনিকে ঘিরে চলমান বিতর্কের প্রকৃত চিত্র জানতে তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রত্যাশা, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য সামনে আসবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য থাকলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা নয়; বরং সত্য উদঘাটন, তথ্য যাচাই এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা। পরীমনিকে ঘিরে চলমান বিতর্কেও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সচেতন গণমাধ্যমকর্মীরা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : মো: শাহাদাত হোসাইন
